ঢাকা, সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬

কাফরুলে বাবুকে হত্যায় ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে চার শুটার ভাড়া করা হয়েছিল : ডিবি

কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার জন্য ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে মাগুরা ও ঝিনাইদহ থেকে চার পেশাদার শুটার ভাড়া করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে পরিকল্পিত হামলা লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় নিহত হন যুবদল কর্মী ইউসুফ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।


তিনি বলেন, স্থানীয় ময়লার টেন্ডার, ফুটপাতের দোকান, ব্যবসা এবং একটি টিনশেড বাড়ির দখল নিয়ে কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের সঙ্গে যুবদল নেতা হাফিজুল ইসলাম বাবুর দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এ বিরোধের জেরে বাবুকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় এবং ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে চারজন পেশাদার শুটার ভাড়া করা হয়।


ডিবির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ জুন প্রথমবার হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনা করা হলেও পিস্তলে গুলি ভরার সময় মিসফায়ার হওয়ায় তা ব্যর্থ হয়। পরে ২২ জুলাই শুটাররা আবার ঢাকায় এসে মিরপুর-২ এলাকার একটি হোটেলে ওঠেন। ২৩ জুলাই রাতে তারা হামলার প্রস্তুতি নেন এবং ২৪ জুলাই রাতে বাবুর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।


শফিকুল ইসলাম বলেন, সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করায় স্থানীয়রা তাদের পরিচয় জানতে চান এবং তল্লাশির চেষ্টা করেন। এ সময় একজন অস্ত্র বের করে যুবদল কর্মী ইউসুফকে গুলি করেন। এলোপাতাড়ি গুলিতে মনির হোসেন ও সবজি বিক্রেতা সালাম সরদার আহত হন।


তিনি জানান, হামলার পর পালানোর সময় স্থানীয় জনতা অস্ত্রধারী চঞ্চলকে অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এরপর থানা-পুলিশের পাশাপাশি ডিবির মিরপুর বিভাগ ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে নাহিদ ও শাফিনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে জিয়ারুল, আলী হোসেন, জিহাদ, আবির ও মাসুমকে বিভিন্ন জেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়।


গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর মিরপুর-১৩ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ইউসুফ নিহত হন এবং মনির হোসেন ও সালাম সরদার আহত হন। পরদিন নিহত ইউসুফের বড় ভাই মাসুদ রানা বাদী হয়ে কাফরুল থানায় হত্যা মামলা করেন।

ads
ads
ads

Our Facebook Page